শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ০৯:০১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
শিরোনাম

ফরিদপুরের মেয়ে মণিরামপুর প্রেমিকের বাড়িতে বিষপান, মোটা টাকায় ধামাচাপা

আব্দুল্লাহ আল মামুন, যশোরঃ / ৩১ বার পঠিত
আপডেট : সোমবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ১১:৩৫ পূর্বাহ্ণ

ফরিদপুর ভাংগার এক তরুনীর সাথে প্রেমের সম্পর্কের জেরে মণিরামপুর পৌরশহরের বিজয়রাম পুর গ্রামের রতিকান্তের বাড়িতে আসলে অবৈধভাবে কয়েক রাত রাখার পর ঝগড়া-বিবাদে বিষ পান করলে হাসপাতালে চিকিৎসা দিয়ে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বিষয়টিকে ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে, এহেন কর্মকান্ডের অভিযোগের সত্যতা মিলেছে স্থানীয় কয়েকজন যুবকের বিরুদ্ধে। শুধু তাই না রতিকান্ত ভাংগায় এনজিওর চাকরিরত অবস্থায় শ্যামলীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিভিন্ন সময়ে ২২ লক্ষ টাকাও নিয়েছে রতিকান্ত নামের এ প্রতারক।

মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিসিডিবি ফুটেজ, আউটডোরের রোগীর রেজিস্ট্রার ও অনুসন্ধানের পরিপেক্ষিতে গোপন রহস্যের আসল ঘটনা ফুটে উঠেছে। জানা গেছে,ক্ষতিগ্রস্ত সনতনধর্মালম্বীর শ্যামলী ফরিদপুর জেলার ভাংগা এলাকার জৈনক সোনাই বেপারীর মেয়ে। আর প্রতারক রতিকান্ত পাল মণিরামপুর পৌরসভার বিজয়রামপুর গ্রামের মৃত রাজেন্দ্র পালের ২য় ছেলে। রতিকান্তের বিরুদ্ধে বছর তিন আগেও কোন এক অনুরাধা নামের মেয়েকে ফুসলিয়ে অর্থ লোপাট ও ব্লাকমেইল করে এলাকা ছেড়ে বরিশাল জেলাতে চলে যায় বলে জানা গেছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিসি ফুটেজ, রেজিস্ট্রার খাতার তথ্যনুযায়ী গতমাসের ২৯শে জানুঃ সন্ধা ৭টার পরপরই নাহিদ হাসান নামে এক যুবক শ্যামলীকে বিষপান করা অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যায়। সাথে ছিলো একই এলকার ওমর আলী, ইয়ারুল, উসমান সহ আরো ২জন যুবক।

অনুসন্ধানে গেলে, স্বাস্থ্যকর্মীদের বক্তব্যনুসারে গত মাসের ২৯ তারিখে সন্ধা ৭টা নাগাত হাসপাতালে ৫/৭ জন যুবক ২২ বছর শ্যামলীকে বিষপান অবস্থায় নিয়ে যায়। স্টো-মাক্স ওয়াস করে রোগীর অবস্থা খারাপ হওয়ায় যশোর ২৫০শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে রেফার্ড করে। রোগী বহনকারীদের আচরন সন্দেহজনক ও রোগি সনাতনধর্মে হলেও বহনকারীরা সকলে মুসলিম ধর্মের হওয়াতে বহনকারীদের মধ্যে নাহিদ হাসানের ফোন নং লিখে রাখে। দূর্ঘটনা না হওয়াতে থানা পুলিশকে জানায়নি কর্তৃপক্ষ বলে জানান, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত ডাঃ আলেক। এ ঘটনার পর থেকে ঐ মেয়ে কোথায় আছে,তার পরিবার খবর পেয়েছে কিনা এমনকি প্রতারক রতিকান্ত পালের কোন ছায়া দেখা যায়নি বিজয়রামপুর বা মনিরামপুরে। খোঁজ নিতে গেলে প্রথমে রতিকান্তের বাড়িতে তার ভাই, মা, ভায়ের বউ ঘটনা স্বীকার করলেও কেউ জানেনা রতিকান্ত কোথায়। এমনকি গ্রমের লোকজনও মুখ খোলনি। তবে নাহিদ হাসানের কথা মোতাবেক বোঝা যায়-এর সাথে আরো কয়েকজন সম্পৃক্ত। খোজে খোজে মিললো সত্যতা!

বিজয়রামপুর গ্রামের নাহিদ হাসান, ওমর আলী, ইয়ারুল, উসমান সহ আরো কয়েকজন মিলে মোটা অংকের টাকা নিয়ে এলাকায় শোডাউন দিয়ে ঘোষণা দেয়, কেউ এ বিষয়ে মুখ খুললে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমনকি অনুসন্ধানে গেলে নাহিদ হাসান জানান সে জনসেবা করেছে। রাস্তায় বিষপান করা ২২বছরী ফরিদপুরের ঐ যুবতীকে হাসপাতালে পৌঁছে দিয়েছে, নিউজ করলে করতে পারেন। আমরা এলাকাবাসী এক আছি। তবে এলাকাবাসির কিছু কিছু লোক এই গ্যাং এর অর্থ বানিজ্যের মাধ্যমে বিষয়টি ধামাচাপা দিয়ে প্রতারক রতিকান্তকে নিরাপদে লুকিয়ে রাখার কথাও স্বীকার করেছে। তথ্য আছে এ চার জন যুবকের একটি সংঘবদ্ধ চক্র ঐ এলাকায় অধিপত্য বিস্তার করে সন্ত্রাসী, মাদক প্রতারক রতিকান্তের বড় ভাই বলেন, ভায়ের সাথে কোন সম্পর্ক নাই। তার খবর রাখেনা, ফোন নং ও নাই। তবে তিনি বলেছেন, একটা মেয়ে আসছিলো তার ছোট ভায়ের বাড়িতেও ছিলো তারপর আর কিছু জানেনা।

এ দিকে নাহিদ, ইয়ারুল, ওমর, ওসমানের সিন্ডিকেট এ ঘটনা ধামাচাপা দিতে মোটা অংকের টাকা নিয়ে সমস্ত মহলকে ম্যানেজ করে চলেছে। এ ব্যাপারে মণিরামপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নুর মোহাম্মদ গাজীর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন।

Facebook Comments Box


এই ক্যাটাগরির আরও খবর
এক ক্লিকে বিভাগের খবর