চলতি আমন মৌসুমের আড়াই মাসেরও বেশি সময় অতিবাহিত হলেও যশোরের অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়া খাদ্য গুদামে এক কেজি ধানও সংগ্রহ করতে পারেনি খাদ্য গুদাম কর্তৃপক্ষ । ধান ও চাল সংগ্রহের জন্য অল্প কিছু সময় হাতে থাকলেও লক্ষ্যমাত্রা পূরণ তো দূরের কথা, আংশিক পূরণ হওয়া নিয়েও রয়েছে অনিশ্চয়তা।
নওয়াপাড়া খাদ্য গুদাম কতৃপক্ষ সুত্রে জানা যায়, তাদের ধান-চাল সংগ্রহ ১ ডিসেম্বর ২০২৪ থেকে শুরু হয়েছে, যা ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ পর্যন্ত চলবে। তাদের এ মৌসুমে ৫২৫ মেট্রিক টন ধান ও ৩ হাজার মেট্রিক টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে ৪ টি চুক্তি বদ্ধ মিল থেকে ১ হাজার ৪ শত মেট্রিক টন চাল সংগ্রহ হলেও কৃষকদের কাছে থেকে ১ কেজি ধান সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি।
মৌসুমে ধানের মূল্য প্রতি কেজি ৩৩ টাকা ও চালের মূল্য ৪৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। যা বাজার মুল্য থেকে অনেক কম।
ধান-চাল সংগ্রহের সঙ্গে জড়িতরা বলছেন, এবারে উপজেলায় জলাবদ্ধতার জন্য ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ জন্য কৃষকরা যেমন আমনের কাঙ্ক্ষিত ফলন ঘরে তুলতে পারেনি, অন্যদিকে সরকার নির্ধারিত মূল্য থেকে খোলাবাজারে ধানের দাম বেশি হওয়ায় কৃষকরা সরকারের কাছে ধান বিক্রিতে আগ্রহী না। এবিষয়ে অভয়নগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লাভলী খাতুন বলেন, উপজেলায় মোট ৭ হাজার ৬ শত ৮১ হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ হয়েছে এবং জলাবদ্ধতার জন্য ১ হাজার ৮ শত ২৬ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ করা সম্ভব হয়নি। সে জন্য আমন উৎপাদন কম হয়েছে। পাশাপাশি খোলা বাজারে দাম বেশি পাওয়াতে কৃষক খাদ্য গুদামে ধান দিতে আগ্রহী হয়নি।