নওগাঁর বদলগাছী সদর ইউনিয়নের অসহায় ও হতদরিদ্রদের মাঝে বরাদ্দকৃত ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ ওঠেছে। উপকারভোগীর অভিযোগ ওজন করা ছাড়াই বালতির মাপে চালগুলো বিতরণ করা হচ্ছে। ফলে ১০ কেজির জায়গায় ৯কেজি ৩৫০গ্রাম বা ১০সের করে চাল দেওয়া হয়েছে। আর এই কাজ করা হয়েছে ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতিতেই।
এদিকে কম দেওয়ার পর ২৫৬০ জনের প্রায় ১৭১৫কেজি চাল আত্মসাত করেছে বদলগাছী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন।
জানাযায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সারাদেশের ন্যায় নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার সকল ইউনিয়নে হতদরিদ্র, অসহায় দুস্থদের জনপ্রতি ১০ কেজি বিনামূল্যে ভিজিএফ (ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং) এর খাদ্যশস্য (চাল) বিতরণ করার কথা। সেই কর্মসূচীর অংশ হিসেবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়নে বদলগাছী ইউনিয়নে ২৫শ`৬০জন উপকার ভোগীরদের মাঝে ১০ কেজি হারে চাল বিতরণ করার কথা।
সরেজমিনে বদলগাছী সদর ইউনিয়নে গিয়ে দেখা যায়, চাল নিতে আসা উপকারভোগীর দীর্ঘ লাইন। হাতে চেয়ারম্যানের স্বাক্ষরযুক্ত ভোটারকার্ডের ফটোকপি। পরিষদের চাল দেবার ঘরে দেখা যায় কয়েকজন ব্যক্তি ওজন করা ছাড়াই বালতি দিয়ে চাল বিতরণ করছে। ইউনিয়ন পরিষদের চাল বিতরণ করা এক ব্যক্তি বলেন, চেয়ারম্যান ১০সের করে চাল দিতে বলেছে।
চাল নিতে আসা রেজ্জাক বলেন, চাল বালতির মাপে দিচ্ছে। মেপে দেখি ১০কেজি নেই। ফ্রি দিচ্ছে তাই কিছু বলিনি।
উপকারভোগী শাহানাজ বলেন, আমরা বেশিরভাগ লোক বস্তা সহ ৯ কেজি ৫শত, ৯কেজি ৪শত গ্রাম চাল পেয়েছি। আমরা গরীব অসহায় মানুষ আমাদের করার কিছু নাই। এই ভিজিএফ চাল প্রকৃত গরীব অসহায় দুঃস্থদের দেওয়ার কথা থাকলেও চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যরা প্রকৃত গরীব অসহায় দুঃস্থদের কার্ড না দিয়ে স্বচ্ছল ব্যক্তিদের কার্ড দিচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, চাল কম করে দিয়ে দুজন গ্রাম পুলিশের জন্য ১বস্তা করে এবং যারা চাল বিতরণ করছে তাদের প্রতি জনকে ২০কেজি করে চাল রেখেছে।
চালের কার্ড না পেয়ে শফির বলেন, আমার এক কাঠা জমি নেই। আমি এবং আমার স্ত্রী অন্যের বাড়িতে কাজ করে খাই। আমাকে চেয়ারম্যান একটি কার্ড দেয় নি।
ফিরোজ বলেন, ভাই আমাকে কেউ কার্ড দেয় না। আমার ৪জনের পরিবার। আমি ভ্যান চালিয়ে খাই। প্রতিদিন চাল না কিনলে ভাত হয় না।
ইউনিয়ন পরিষদে কথা হয় উপজেলা দূর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল রউফ বলেন, দু:স্থ ও অসহায়দের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নপ্রকল্পে দেশের প্রত্যেকটি অঞ্চলে ভিজিএফ কর্মসূচী চালু করেছে। এই ভিজিএফ’এর চাল বরাদ্দে এবং বিতরণে উঠেছে ব্যাপক দুর্নীতি এবং অনিয়মের অভিযোগ । এতে অন্তবর্তীকালীন সরকারের ভাবমূর্তী যেমন ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে তেমনি বঞ্চিত হচ্ছেন অসহায় দু:স্থরা। এই দুর্নীতি অনিয়মের সাথে জড়িত কতিপয় রাজনৈতিক দলের নেতা, ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বার, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এবং ট্যাগ অফিসার।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ট্যাগ অফিসারের দ্বায়িত্বে থাকা উপজেলা পরিসংখ্যান অফিসের জুনিয়র পরিসংখ্যান সহকারী আবু ওয়াছিব বলেন, আমি ৩০ কেজির ৮৫৪ বস্তা চাল বুঝে পেয়েছি। ১০সের করে চাল বিতরণ করা হচ্ছে। মাষ্টাররোল নাম কেন ফলো করা হচ্ছে না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা চেয়ারম্যান বলতে পারবে।
এ ব্যপারে বদলগাছী সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বলেন, ৯কেজি ৭শ-৮শ করে চাল দেওয়া হয়েছে। চাল বিতরণের পর যে চাল অবশিষ্ট ছিলো তা উপস্থিত ব্যক্তিদের মাঝে বন্টন করে দিয়েছি।
ভিজিএফের মাষ্টাররোলে একজনের জায়গায় অন্যজন টিপসহি দিয়ে চাল নিচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভীড়ের মধ্যে দু-একজনের এমন হতে পারে।
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকল্প ব্যস্তবায়ন কর্মকর্তা মুনিরুল ইসলামের মুঠোফোনে ০১৭১৮৩৩৯৪৮৪ নম্বরে বারবার ফোন দিলে তিনি রিসিভ করেন নি।
এ ব্যপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইশরাত জাহান ছনি বলেন, চাল কম দেবার কোন নিয়ম নেই। যদি এমন অভিযোগ আসে তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।