মোঃ মিঠু হাসান, নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
নওগাঁর বদলগাছী কার মাইক্রো চালক কল্যাণ সমিতির নিকট জোরপূর্বক চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে কলেজ শাখার ছাত্রদলের এক নেতা ও তার সঙ্গীদের বিরুদ্ধে। সেই সাথে মারপিট করে নগদ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ করেছেন তাদের বিরুদ্ধে।
রবিবার (২৩ শে মার্চ) রাত সাড়ে আট টায় বদলগাছী থানা মোড় এলাকায় এসব ঘটনা ঘটেছে বলে অভিয়োগ করেন ভূক্তভোগীরা। এঘটনায় প্রতিকার চেয়ে ওই দিন রাতেই সমিতির সাধারণ সম্পাদক বদলগাছী থানা পুলিশ বরাবর একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ ওঠা ওই নেতার নাম মোস্তাকিম (২৫)। তিনি বদলগাছী সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব। এবং কলেজপাড়ার আজাহার আলীর ছেলে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, বদলগাছী কলেজ শাখার ছাত্রদল নেতা মোস্তাকিমসহ তার সঙ্গীরা প্রায় ১৫-২০ জন থানার মোড়ে রাত সাড়ে আট টায় বদলগাছী কার মাইক্রো কল্যাণ সমিতির সদস্য আজিজার ও উত্তম কুমারের কাছে এসে আশি হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। না দিলে তাদের মাইক্রো চালাতে দিবে না হুমকি দেয় তারা। চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকার করলে সমিতির সদস্য আজিজার ও উত্তম মহন্ত কে মারধর করে। এবং আজিজারের কাছে থাকা নগদ ২১ হাজার ৭ শত ৩০ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এক পর্যায়ে তারা চিৎকার করিলে আশে-পাশের লোকজন এগিয়ে আসলে ছাত্রদল নেতা মোস্তাকিম ও তার সঙ্গীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
ভুক্তভোগী সদস্য আজিজার এর সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, আমিসহ আরেক সদস্য উত্তম মহন্ত স্ট্যান্ডে ছিলাম। হঠাৎ করে ছাত্রদলের মোস্তাকিমসহ কয়েকজন এসে আমাদের কাছে ৮০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। না দিতে চাইলে তারা আমাকে মারধর করে ২১ হাজার ৭ শত ৩০ টাকা ছিনিয়ে নেয়। বিষয়টি জানানোর পর সমিতির সাধারণ সম্পাদক থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।
বদলগাছী কার মাইক্রো কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক বকুল হোসেন বলেন, আমরা কয়েক বছর ধরে থানা মোড়ে কার মাইক্রো ভাড়ায় চালায়। ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী আমার সদস্যের কাছে ৮০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে এবং তাদের মারধর করে ২১ হাজার ৭ শত ৩০ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। তাই থানায় অভিযোগ দিয়েছি। আইনের মাধ্যমে চাঁদাবাজদের কঠিন শাস্তি দাবি করছি।
অভিযোগ ওঠা বদলগাছী সরকারি কলেজ শাখার সদস্য সচিব মোস্তাকিম মুঠোফোনে জানান, সেখানে চাঁদা চাওয়ার কোন ঘটনা ঘটেনি। মূলত কয়েকদিন আগে আমার বন্ধুর জিনিসপত্র ঢাকা থেকে আনার জন্য এক মাইক্রো চালকের সাথে ভাড়া চুক্তি হয়। সে নির্দিষ্ট সময়ে জিনিসপত্র না এনে তালবাহানা করতে থাকে। কয়েকদিন পর জিনিসপত্র এনে চুক্তির বাহিরে আরো এক হাজার টাকা বেশী নেয়। সেই এক হাজার টাকা বেশী নেওয়ার জন্য আমরা কয়েকজন বন্ধু সেখানে গিয়ে প্রতিবাদ করলে চালকরা আমাদের উপর চড়াও হয়। এরপর ঘটনাস্থল আমরা ত্যাগ করি। সেখানে এক টাকাও চাঁদা চাওয়া হয়নি। সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগ।
সকালে জানতে চাইলে বদলগাছী উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সুমন হোসেন মুঠোফোনে বলেন, মোস্তাকিম কলেজ শাখার সদস্য সচিব। এই ঘটনাটি সত্য প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলার নেতাদের কাছে জানাবো। কারণ আমরা চাইনা কারো জন্য দলের সুনাম নষ্ট হোক।
অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বদলগাছী থানার অফিসার ইনচার্য শাহজাহান আলী জানান, তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।