শীতে বিদায়ের পরপরই গরমের যাত্রা শুরু। একদিকে গরম অন্যদিকে মাহ রমজান। সারা দিন রোজা শেষে ইফতারিতে কি রসালো ফল তরমুজ না রাখলে চলে? গরম এবং রোজাকে সামনে রেখে অধিক মূল্য পাওয়ার আশায় বরগুনার আমতলীতে এবছর আগাম তরমুছ চাষ করেছেন কৃষকরা। ফলনও হয়েছো ভালো। প্রতিদিন কৃষকরা তাদের উৎপাদিত তরমুজ ট্রাক, ট্রলি টমটমসহ নানা বাহনে করে ক্ষেত থেকে নিয়ে আসছন আমতলীর বাজারে। গত শুক্র ও শনিবার দু’দিনে তরমুজে সয়লাব হয়ে গেছে আমতলীর বাজার। ইতিমধ্যো ফলের দোকান, সড়কর পাশে এবং কাঁচা বাজারে সাজিয়ে কিংবা ভ্যান গাড়িত করে বিক্রি করছেন রসালো তরমুজ।
আমতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয়ের সূত্রে জানা গেছে, এবছর আমতলী উপজেলায় ৪ হাজার ৪শ’ ৪১ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে ২লক্ষ ১৪ হাজার ৬০ টন। মৌসুম শুরু এবং এখন পর্যন্ত ঝড় বষ্টি না হওয়ায় উৎপাদনের লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে মনে কৃষি বিভাগ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টিবিজ্ঞান ইস্টিটিউটের প্রফেসর মোঃ আক্তারুজ্জামান বলেন, গ্রীষ্মকালীন ফল তরমুজে রয়েছে প্রচুর পরিমান ভিটামিন এ, বি, সি পটাশিয়াম ও আঁশ। মৌসুমি এই ফলটিতে রয়েছে নানা রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা। তরমুজ হলো ভিটামিন ‘বি-৬’ এর চমৎকার উৎস, যা মস্তিস্ক সচল রাখতেও গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখে। তরমুজ অ্যাটিঅক্সিডেট থাকায় এটি খেলে দেহের অক্সিডেটিভ স্ট্রসজনিত অসুস্হতা কম। এবং এতে পানি রয়েছে প্রচুর পরিমান তাই ইফতার শেষে তরমুজ খল দ্রুত পানি শূন্যতা পূরন হয় বলেও মত দেন তিনি। তাই ইফতারিতে রোজাদাররা অন্যান্য ইফতার সামগ্রীর সাথে পরিমিত তরমুজ ক্ষেতে পারেন অনায়াসে। এছাড়া নিয়মিত তরমুজ খেলে মাসুষ দীর্ঘজীবি হয়।
আমতলী পৌরসভার বাসিদা রোজাদার আমিনুল ইসলাম সোহেল তালুকদার বলেন, ইফতারে রসালো ফল তরমুজ না রাখলে কি চলে? তাই তিনি প্রতিদিন এই ফল রাখছেন প্রতিদিনের ইফতার সামগ্রীর সাথে। মঙ্গলবার সকাল আমতলীর নতুন বাজার চৌরাস্তা ঘুরে দোখা গেছে সড়কের দু’পাশ, ফলের দোকান, কাঁচা বাজার প্রতিটি দোকান ভরে গেছে তরমুজে। বিক্রিও হচ্ছে ভালো বলে জানান ফল ব্যবসায়ী আরাফাত। আমতলীর বাজারে তরমুজ নিয়ে আসা ধানখালীর কৃষক শাহীন জানান,এবছর ৪বিঘা জমিতে আগাম তরমুজ চাষ করে খরচ হয়েছে ৫০ হাজার টাকা। ফলন ভালল হয়েছে এপর্যন্ত ৪০ হাজার টাকা বিক্রি করছি। ক্ষেতে যে পরিমান তরমুজ আছে তাতে আরো ৬০ হাজার টাকা বিক্রি করতে পারবেন বলে জানান। লোদা গ্রামের রিফাত গাজী বলেন ৪০ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করছি। ৬ লক্ষ টাকা বিক্রি হয়েছে। আশা করি এবছর খরচ বাদ ১০ লক্ষ টাকা লাভ করতে পারবো।
আমতলীর সোনাখালী গ্রামের হাচন আলী খা চাওড়া ইউনিয়নের পাতাকাটা গ্রামে ৫৬ বিঘা জমি এল বছরের জন্য লিজ নিয়ে তরমুজ চাষ করেছেন। তাতে খরচ হয়েছে ৮লক্ষ টাকার মত। তার ক্ষত জুরে তরমুজ ভরে গেছে আর ২-৩ দিনের মধ্য তরমুজ বিক্রি শুরু করবেন। তিনি জানান যে ভাব ফলন ভালো হয়েছে তাতে ২০ লক্ষ টাকার তরমুজ বিক্রি করা যাবে। তিনি আরো জানান, ঢাকা থেকে পাইকাররা এসে দাম বলছন বনিবনা হলে ক্ষেতসহ একত্রে বিক্রি করে দিব।
আমতলী চৌরাস্তা নতুন বাজার এলাকার আড়ৎদার মোঃ আব্দুস ছালাম জানান, ছোট এবং মাঝারি সাইজের তরমুজ ১৮০ থেকে ২শ’ টাকা এবং বড় সাইজের তরমুজ আড়াইশ’ থেকে ৩শ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তিনি আরো জানান,গত ২-৩ দিন ধরে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী, কলাপাড়া উপজলার ধানখালী এবং কুয়াকাটা থেকে প্রচুর পরিমান তরমুজ আসছো বাজারে। দামও নাগালের মধ্যো বলে তিনি মনে করেন।
আমতলীর খোন্তাকাটা এলাকার খুচরা তরমুজ ক্রেতা আলী হাসান জানান, এবছর দাম নাগলের মধ্যো আছে। এজন্য ২-১ দিন পর পর তরমুজ কিনে বাসায় নেই। শহরের রিকসা চালক চান্দু গাজী বলেন, দাম কম অওয়ায় পোলা মাইয়াগো লইগ্যা মাঝে মধ্যো দুই একটা তরমুজ কিনি। আ
সমতলী উপজেলা কৃষি উপ-সহকারী কর্মকর্তা মোঃ বেল্লাল হোসেন জানান, তরমুজে লাভ বেশী হওয়ায় কৃষকরা অগ্রহায়ন মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে তরমুজ চাষ শুরু করেন। ঠিকমত পরিচর্জা করলে ৩ মাসের মধ্যো ভালো ফলন পাওয়া যায়।
আমতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ রাসেল বলেন, ধানের পর আমতলীতে দ্বিতীয় ফসল হিসেবে তরমুজ চাষ করছন চাষীরা। এবছর মৌসুমের শুরু থেকে কোন বষ্টিপাত না হওয়ায় লক্ষমাত্রার চেয়ও অধিক উৎপাদন হবে। রমজানে তরমুজের চাহিদা থাকায় কৃষকরা দামও পাচ্ছেন ভালল। আশা করি তরমুজি চাষীরা এবছর লাভবান হবে।